ত্রিপুরায় ভোট : কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল : ফল নিয়ে চর্চা
আমার বাংলা নিজস্ব প্রতিনিধি: আগামিকাল ত্রিপুরার ৬০টি বিধানসভা আসনে ভোট গ্রহণ পর্ব চলবে। ফল ঘোষণা হবে ২ মার্চ।ত্রিপুরায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ভোট গ্রহণে গণ্ডগোল ও অশান্তি রুখতে ৩০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর ।
গতকাল থেকেই ত্রিপুরা জুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বিভিন্ন এলাকায় টহল দিতে শুরু করেছে । আগরতলা সহ ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকায় জোর নিরাপত্তা বলয়। ত্রিপুরা সংলগ্ন বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাতেও কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী। পাশাপাশি থাকছে ত্রিপুরার পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। শুরু হয়ে গিয়েছে “ফ্ল্যাগ মার্চ”।
রাজ্যের বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষমরা যাতে নিজের ভোট ঘরে বসেই দিতে পারেন,সেই বন্দোবস্তও করা হয়েছে। এই প্রথম রাজ্যের দৃষ্টিহীন ভোটারদের কথা মাথায় রেখে ব্রেইল ভোটার স্লিপ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ইতিমধ্যেই নির্বাচনের ফল কী হতে চলেছে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তুঙ্গে। “মোদি-ফ্যাক্টর” কতটা কাজ করবে এই নির্বাচনে তা নিয়েও চর্চা চলেছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের “স্বচ্ছ ভাবমূর্তি” এই ভোটে কতটা প্রভাব পড়ে সে বিষয়েও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের চর্চা অব্যাহত। এই নির্বাচনে বিজেপির তুরুপের তাস কে হতে চলেছেন, তা নিয়েও জোর জল্পনা ত্রিপুরার মাটিতে। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল কেমন ফলাফল করে সে দিকেও চোখ থাকছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। বাম-কংগ্রেস জোটের ফলের দিকেও নজর থাকছে।
সংবাদ মাধ্যমে বিজেপির মানিক সাহা বলেছেন,”প্রধানমন্ত্রী যখন বললেন “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ” তখন মনে হল উঁনি সবার কথা চিন্তা করেন। যখন যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি ২০১৪সালে দেশের দায়ভার নেন,তখন থেকেই ভারতবর্ষের চেহারা অন্যরকম হয়ে গেল। ত্রিপুরার মানুষ একটা বিকল্প চাইছিল তারই বহিঃপ্রকাশ হচ্ছিল ধীরে ধীরে।”
ত্রিপুরার জনমানসে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে,এবার নির্বাচনে লড়াই করছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। তিনি ধনপুর বিধানসভা আসনে জয়ী হলে বাঙালি মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসাবে তুলে ধরতে পারে বিজেপি। তিনি একদিকে মহিলা রাজনীতিক। অন্যদিকে জাতিতে “নাথ”। জনজাতির প্রতিনিধি হলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর ।
ত্রিপুরায় ফের বিজেপি ক্ষমতায় এলে সাধারণ ঘরের এই প্রতিমাকেই ত্রিপুরার মহিলা মুখ্যমন্ত্রীর মুখ হিসাবে তুলে ধরতে পারে পদ্ম নেতৃত্ব। জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “বিকল্প” মুখ হিসেবেও তুলে ধরার চেষ্টা চলছে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা অংশের মত। “ত্রিপুরার রবিনহুড” সুদীপ রায় বর্মনের সুর অবশ্য ভিন্ন। আগরতলা কেন্দ্র থেকে লড়াইয়ে থাকা এই কংগ্রেস প্রার্থীর বক্তব্য, ” দিনের শেষে সত্যের জয় হবে। বিজেপি বিশ্রীভাবে পরাস্ত হবে।” তবে সব হিসাব মিলবে ২মার্চ ফল ঘোষণার পরই। (ছবি: সংগৃহীত)

